ছোট মাছে আইকিউ বাড়ে
মাছে ভাতে বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে মাছ। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান প্রজন্মে অনেকেই মাছ খেতে চান না বা পছন্দ করেন না। তাদের পছন্দ প্রক্রিয়াজাত ফাস্টফুড কিংবা মাংসে।
এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। এরই অংশ হিসেবে বুধবার ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বেশি করে মাছ খাও, আইকিউ সমৃদ্ধ জাতি গড়ো’ শীর্ষক এক বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করা বিজ্ঞান জাদুঘর ক্যাম্পাসে।
বিজ্ঞান বক্তৃতায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা মাছের নানা পুষ্টি গুনাগুণ এবং খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন প্রকার মাছ রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা করে। বিশেষ করে ছোট মাছ মানবদেহের প্রয়োজীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ছোট মাছ রাখার বিষয়ে মতামত প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞান বক্তৃতায় উঠে আসে, মলা, ঢেলা, চান্দা, পুঁটি, টেংরা, কাচকি, বাতাসি মাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, জিংক, আয়রন, ফসফরাস, প্রোটিন, ভিটামিন ডি রয়েছে। বিশেষ করে যদি চোখের কথা বলা হয় তাহলে ভিটামিন-'এ' এর পরিমাণ বেশি থাকায় এ ধরনের ছোট মাছগুলো চোখের জন্য ভীষণ উপকারী। ছোট মাছে মজুদ থাকা প্রোটিন চোখের নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। ডোকোসাহেক্সায়েনোইক অ্যাসিড (ডিএইচএ) এবং ইকোসাপেন্টাইনয়িক অ্যাসিড (ইপিএ) থাকে ছোট মাছে যা বড়দের হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখা ও শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক। ছোট মাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকায় শরীরের জন্য বেশ উপকারী। শরীরের হাড় মজবুত রাখে ও চোখের সমস্যা দূর করে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে শিশু কিশোরদের মধ্যে মাছ খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে মাংস বিশেষ করে জাংক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, মাছ খেলে শিশুদের আইকিউ বাড়ে, এমনকি দৃষ্টিশক্তিও বাড়ে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোট মাছে আমিষের পরিমাণ ১৪-১৯ ভাগ থাকে। চিকিৎসকরা শিশুদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা ও মনোজাগতিক উন্নতির জন্য ছোট মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই পিতামাতাকে এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”







